নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণদের বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির দাবি
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন করেন উত্তীর্ণ প্রার্থীরা।
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক এই তিন কঠিন ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগবঞ্চিত ৫-৬ হাজার প্রার্থী বিশেষ সুপারিশ বা ৭ম গণবিজ্ঞপ্তির দ্বিতীয় পর্যায়ের মাধ্যমে নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীরা এই দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ১৯ লক্ষ প্রতিযোগীর মধ্যে মাত্র ৩.২৪ শতাংশ প্রার্থী হিসেবে তারা চূড়ান্ত মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। অথচ এনটিআরসিএ পর্যাপ্ত শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও অনেককে সুপারিশবঞ্চিত রেখেছে।
তারা বলেন, "নিয়োগের বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় হাজারো পরিবার আজ অন্ধকারের মুখে। সুপারিশবঞ্চিত হয়ে যমুনা রায় নামের এক প্রার্থীর আত্মহত্যা এনটিআরসিএ-র অমানবিক অব্যবস্থাপনারই প্রতিফলন।"
প্রার্থীরা জানান, ১৯তম নিবন্ধনে লিখিত পরীক্ষা বাদ দিয়ে কেবল এমসিকিউ ও ভাইভার মাধ্যমে নিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের মানদণ্ডকে দুর্বল করবে। তাদের দাবি, নতুন কোনো নীতিমালা কার্যকর করার আগেই ১৮তম নিবন্ধনের মেধাবী প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধান দুই দাবি:
১৮তম নিবন্ধনে উত্তীর্ণ অবশিষ্ট ৫-৬ হাজার প্রার্থীকে দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্যপদ যুক্ত করে সরাসরি সুপারিশ অথবা ৭ম গণবিজ্ঞপ্তির বা নতুন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান।
শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের আগে বিষয়ভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বর্তমান উত্তীর্ণ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে লক্ষাধিক শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে গেস্ট টিচার দিয়ে পাঠদান চলছে। অন্যদিকে, এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে পূর্বে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৬০ হাজার জাল সনদধারী শিক্ষক শনাক্ত হচ্ছে। প্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত যোগ্য শিক্ষক হয়েও আমরা পথে পথে ঘুরছি, আর অযোগ্যরা শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে। এটি রাষ্ট্র ও নীতিনির্ধারকদের জন্য অপমানজনক।"
বঞ্চিত প্রার্থীরা জানান, তারা ইতিমধ্যে প্রধান উপদেষ্টা (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গ), শিক্ষামন্ত্রী এবং এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে ইতিবাচক আশ্বাস মিললেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত নিয়োগের ব্যবস্থা করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
প্রার্থীরা বলেন, "আমরা আর রাজপথে থাকতে চাই না, শিক্ষাঙ্গনে ফিরে গিয়ে দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে অবদান রাখতে চাই।"
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের সভাপতি অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজীসহ ১৮তম নিবন্ধনে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা।