মাহবুব আলম (অষ্টগ্রাম) কিশোরগঞ্জ:
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় উচ্চ ফলনশীল ফসল ক্যাপসিকাম চাষ করে লাভবান হয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও উদ্যোক্তা মোঃ এলেম মিয়া। অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়নের দালান হাটি এলাকায় ২০ শতাংশ জায়গায় ১৫’শত চারা রোপন করে দেড় টন ক্যাপসিকাম উত্তোলনের আশাবাদী এই কৃষক।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন সবজি চাষের মাধ্যমে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি আশেপাশের উপজেলা ও শহরে সরবরাহ করে আসছেন।
গত কয়েক বছর ধরে অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়নের দালান হাটি এলাকায় মোঃ এলেম মিয়া টমেটো, বেগুন, শশা, কিরা, লাউসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজি চাষে দক্ষতা দেখিয়েছেন। তার খামারে আধুনিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা, সুষম সার প্রয়োগ ও রোগবালাই দমনে সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে উৎপাদন বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার-এর পরামর্শ অনুযায়ী হাওরাঞ্চলের উর্বর মাটিকে কাজে লাগিয়ে এবার তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করেন। হাওরের মাটির প্রাকৃতিক উর্বরতা ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলন হয়েছে আশানুরূপ। বাজারে ক্যাপসিকামের চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় তিনি আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হয়েছেন।
কৃষক এলেম মিয়া জানান, শুরুতে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও কৃষি অফিসের সহযোগিতায় চাষ শুরু করি। ফলন ভালো হওয়ায় এখন নিয়মিতভাবে ক্যাপসিকাম আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি।এবং সরকারের প্রতি আর্থিক সহযোগিতার আহবান জানাচ্ছি।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অষ্টগ্রাম হাওরাঞ্চলে উচ্চমূল্যের সবজি চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নতুন এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে এবং অনেকেই এখন উচ্চ ফলনশীল ও লাভজনক ফসল চাষে এগিয়ে আসছেন।
স্থানীয়দের মতে, এলেম মিয়ার এ সাফল্য অন্য কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। হাওরাঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন