মাহবুব আলম ( অষ্টগ্রাম) , কিশোরগঞ্জ :
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলেও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রধান কর্মসূচিতে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর অনুপস্থিতি স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবসের প্রথম প্রহরে অষ্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন উপজেলা প্রশাসন, অষ্টগ্রাম থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়, অষ্টগ্রাম বিদ্যুৎ অফিস, হোসেনিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা, অষ্টগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ স্কুল এন্ড কলেজ এবং অষ্টগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
তবে এ কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য কোনো রাজনৈতিক দল, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। বিশেষ করে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অনুপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা যুবদলের এক নেতা বলেন, দলীয় পর্যায়ে উদাসীনতার কারণেই তারা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে যাননি। তার মতে, জাতীয় কর্মসূচির প্রতি গুরুত্ব কমে যাওয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল বলেন, তারা দলীয় কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তার অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত আনুষ্ঠানিকতায় তাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি, যার কারণে তারা কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাইদ আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের কোনো দাওয়াত দেওয়া হয়নি। দাওয়াত ছাড়া আমরা কীভাবে অংশগ্রহণ করবো? এজন্যই আমরা শহীদ মিনারে যাইনি।”
তবে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধা বলেন, প্রস্তুতি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল পক্ষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের কাছেও দাওয়াতপত্র পাঠানো হয়, যার গ্রহণ কপিও সংরক্ষিত আছে। তারা কেন উপস্থিত হননি, তা সংশ্লিষ্টদের নিজস্ব বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, স্বাধীনতা দিবস জাতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এ দিনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা সকল রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নৈতিক দায়িত্ব। এবারের কর্মসূচিতে সীমিত অংশগ্রহণ এবং একটি বড় রাজনৈতিক দলের অনুপস্থিতি সেই দায়িত্ববোধ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন তারা।
মন্তব্য করুন