কক্সবাজারে গ্যাসপাম্পে বিস্ফোরণ: চার দিনে তিনজনের মৃত্য
কক্সবাজার প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের কলাতলী বাইপাস সড়কের ‘কক্সবাজার এলপিজি স্টেশন’ গ্যাসপাম্পে বিস্ফোরন
কক্সবাজারের কলাতলী বাইপাস সড়কের এলপিজি গ্যাসপাম্পে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ১০ জনের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার দিনের ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মোতাহের হোসেন (৪০)। তিনি কলাতলীর উত্তর আদর্শগ্রাম এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে। রাতে জানাজা শেষে তাকে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
একই ঘটনায় ১ মার্চ বিকেলে মারা যান কলাতলীর ঝরঝরি কুয়া এলাকার আবু তাহের (৪৫) এবং ৩ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ৮টার পর মারা যান কলাতলীর চন্দ্রিমা এলাকার আব্দুর রহিম (৩৯)। তারা ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবার দ্রুত তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে।
এর আগে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে কক্সবাজার শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কের ‘কক্সবাজার এলপিজি স্টেশন’ গ্যাসপাম্পে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে সেখানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীসহ পাশের গ্যারেজ ও দোকানের অন্তত ১০ জন দগ্ধ হন। আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং পরে কয়েকজনকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।
নিহত রহিমের ছোট ভাই নুর আহমদ জানান, রহিম গ্যাসপাম্পসংলগ্ন একটি গ্যারেজের মালিক ছিলেন। আগুনে তার গ্যারেজসহ নিজের মালিকানাধীন চারটি জিপ পুড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের সময় সিএনজি অটোরিকশাচালক তাহের তার সঙ্গে গ্যারেজে ছিলেন। তারা দুজনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। আগুনে তাহেরের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং রহিমের শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে যায়।
এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় ১ মার্চ রাতে বিস্ফোরণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস. এম. সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় গ্যাসপাম্পের মালিক রামুর নুর আহমদ সিকদারের ছেলে নুরুল আলম ওরফে এন আলমকে আসামি করা হয়েছে। তিনি পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গ্যাসপাম্পটির জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র (এনওসি), পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি এবং বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স—কোনোটিই ছিল না।
অন্যদিকে একটি সূত্র দাবি করেছে, ঘটনাটি রহস্যজনক হতে পারে। গ্যাসপাম্পের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল বলে জানা গেছে। এ কারণে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি উঠেছে।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে বুধবার বিকেলে মানববন্ধন করা হয়েছে। এতে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে
মন্তব্য করুন