বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মতে, পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ। জেরুজালেম এ বসতিগুলোকে অবৈধ হিসেবে মানতে নারাজ এবং অনেক রাজনীতিবিদ পুরো পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার (আনেক্স) পক্ষে।
ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীরকে ভবিষ্যতের স্বাধীন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। তাদের মতে, স্বাধীন রাষ্ট্রের গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমের সঙ্গে মিলিত হবে অঞ্চলটি।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী মন্ত্রিসভা চলতি মাসে নতুন পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে। এতে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জমি দখল আরো সহজ হবে।
তবে ইসরায়েলের মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের বিরোধী তিনি। তবে মার্কিন প্রশাসন এখনো বসতি স্থাপন বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, গত বছর ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে ফেরা পর এ ধরনের ঘটনা আরো বেড়েছে।
জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস এক্স পোস্টে জানিয়েছে, মার্কিন নাগরিকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টার অংশ হিসেবে কনস্যুলার কর্মকর্তারা ২৭ ফেব্রুয়ারি এফরাতে রুটিন পাসপোর্ট সেবা প্রদান করবেন।
এফরাত হলো বেথলেহেমের দক্ষিণে একটি বসতি। পশ্চিম তীরে বসবাসকারী দ্বৈত নাগরিক মার্কিন-ইসরায়েলিদের সংখ্যা কয়েক লাখ হিসেবে অনুমান করা হয়।
দূতাবাস জানিয়েছে, ভবিষ্যতে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি শহর রামাল্লাহ, বেথলেহেমের নিকটবর্তী বেইতার ইলিট বসতি এবং হাইফাসহ ইসরায়েলের অন্যান্য শহরে অনুরূপ সেবা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জেরুজালেমের মার্কিন দূতাবাস এবং তেল আবিবের শাখা অফিসে পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা দিয়ে থাকে। দূতাবাসের এক মুখপাত্র মন্তব্য করেছেন, ‘প্রথমবারের মতো আমরা পশ্চিম তীরের কোনো বসতিতে কনস্যুলার সেবা প্রদান করছি।’
তিনি আরো জানান, পশ্চিম তীরে মার্কিন-ফিলিস্তিনি দ্বৈত নাগরিকদের জন্যও অনুরূপ সেবা দেয়া হচ্ছে।
গত সপ্তাহে পশ্চিম তীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ কঠোর এবং বসতি স্থাপনকারীদের জমি কেনা সহজ করার পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা। ফিলিস্তিনিরা একে ‘ডি ফ্যাক্টো আনেক্সেশন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
১৯৬৭ সালে আরব দেশগুলোর সঙ্গে যুদ্ধে পশ্চিম তীর দখল করে নেয় ইসরায়েল। এখানকার অধিকাংশ এলাকা ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনি স্ব-শাসন প্রযোজ্য, যা পশ্চিমা সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করে।
পশ্চিম তীরে ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করে। অন্যদিকে ইসরায়েলি রয়েছে ৫ লাখেরও বেশি। অঞ্চলটির বেশিরভাগ বসতিই মূলত ছোট শহর। এগুলো কাঁটাতার ঘেরা সীমানা এবং ইসরায়েলি সৈন্যদের মাধ্যমে সুরক্ষিত।
মন্তব্য করুন