অফজেম জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের ফলে বর্তমানে প্রায় ১৪০টি ডেটা সেন্টার প্রকল্পের প্রস্তাব জমা পড়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৫০ গিগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হতে পারে, যা দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ চাহিদার চেয়েও ৫ গিগাওয়াট বেশি।
বিদ্যুৎ গ্রিডে নতুন সংযোগের চাহিদা নিয়ে অফজেমের এক পরামর্শ নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে গত বছরের জুন পর্যন্ত নতুন সংযোগের আবেদন হঠাৎ করে ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যার বড় একটি অংশ এসেছে ডেটা সেন্টার প্রকল্প থেকে। এ চাহিদা বৃদ্ধির মাত্রা সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে।
চলতি দশক শেষে দেশটির সরকার যতটা পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে, তা পূরণে সৌর ও বায়ুর মতো নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সৌর বা বায়ুভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো কাগজে-কলমে ও বাস্তবে দ্রুত নির্মিত হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু বিদ্যুৎ সঞ্চালনের লাইন, সাবস্টেশন বা গ্রিড সংযোগের কাজ সেই গতিতে এগোচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হলেও সেগুলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না বা দেরিতে পাঠানো হচ্ছে। ফলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও সেটি পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
অফজেম সতর্ক করে বলেছে, ডেটা সেন্টারের এ ব্যাপক চাহিদা মেটাতে গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগের কাজে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে যেতে পারে। অথচ এসব প্রকল্প কার্বন নিঃসরণ কমানো ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত জরুরি। উল্লেখ্য, চ্যাটবট বা ইমেজ জেনারেটরের মতো এআই টুলগুলোর ‘স্নায়ু কেন্দ্র’ হিসেবে কাজ করে এসব ডেটা সেন্টার। চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিগুলো পরিচালনা এবং প্রশিক্ষণে এগুলো অপরিহার্য।
বিদ্যুৎ ব্যবহারের এ লাগামহীন উল্লম্ফন ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রাকে আরো চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান গত বছর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানায়, লিঙ্কনশায়ারের এলশামে প্রস্তাবিত একটি বিশালাকার ডেটা সেন্টার থেকে নির্গত গ্রিনহাউজ গ্যাসের পরিমাণ পাঁচটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্মিলিত নির্গমনের চেয়েও বেশি হতে পারে।
যদিও প্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়ক হতে পারে এআই। বিদ্যুৎ গ্রিডকে আরো দক্ষ করে তোলা কিংবা কার্বনমুক্ত নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে এটি সম্ভব হতে পারে বলে তাদের বিশ্বাস। তবে এর বিপরীতে বড় ধরনের একটি উদ্বেগও কাজ করছে। অনেক বিশেষজ্ঞের আশঙ্কা, নিকট ভবিষ্যতে ডেটা সেন্টারগুলোর বিশাল জ্বালানি চাহিদা মেটাতে গিয়ে দেশটিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর আরো বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হতে পারে।
অফজেম আরো জানিয়েছে, বিদ্যুৎ গ্রিডে সংযোগের জন্য জমা পড়া অনেক ‘অবাস্তব’ আবেদন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সেন্টার প্রকল্পগুলোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে সরকার ঘোষিত ‘এআই গ্রোথ জোন’ বা এআই উন্নয়ন অঞ্চলগুলোর কাজ এতে ব্যাহত হতে পারে।
মন্তব্য করুন