বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মোস্তাকুর রহমান। বর্তমান গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মোস্তাকুর রহমান ১৯৬৬ সালের ১২ মে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৮৭ সালে বি কম (সম্মান) এবং ১৯৮৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯২ সালে (আইসিএমএবি) থেকে কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএমএ) হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে ফেলো সদস্য হন।
তিনি বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টারর্স এসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউজিং এসোসিয়েশন্স অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), এসোসিয়েশন অব ট্র্যাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব), ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাট্রিজের (ডিসিসিআই)- এর সদস্য এবং সংগঠনগুলোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক, চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড ও আরো কিছু প্রতিষ্ঠানের রেগুলেটর কমিটির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।
মো. মোস্তাকুর রহমান একজন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী এবং জ্যেষ্ঠ আর্থিক প্রশাসন বিশেষজ্ঞ। করপোরেট ফিন্যান্স, এক্সপোর্ট ইকনমিক্স, ইনস্টিটিউশনাল গভার্নেন্স, ফিন্যান্সিয়াল সিস্টেমস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ। এসব ক্ষেত্রে ৩০ বছরের বেশি সময় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে।
তিনি বর্তমানে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান হেরা সোয়েটারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কর্পোরেট অর্থায়ন, ব্যাংকিং সম্পর্ক, মূলধন কাঠামো ব্যবস্থাপনা, রপ্তানি অর্থায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রা এক্সপোজার নিয়ন্ত্রণে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ ছাড়া তিনি শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠনগুলোর সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
নতুন গভর্নর আর্থিক ব্যবস্থার শাসন, ব্যাংকিং ও শিল্প অর্থায়ন, রপ্তানি অর্থনীতি, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, কর্পোরেট ও নিয়ন্ত্রক সম্মতি এবং ঝুঁকি তদারকিতে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেছেন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের প্রতি তার অঙ্গীকার ব্যাংকিং খাতে সংস্কার কার্যক্রমে গতি আনবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মোস্তাকুর রহমান বিভিন্ন সামাজিক ও দাতব্য কার্যক্রমেও যুক্ত। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা সহায়তা, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থ রোগীদের উপশমকারী চিকিৎসা সহায়তা এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় তিনি অবদান রেখে আসছেন।
অর্থনীতির চলমান চ্যালেঞ্জ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ ও ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা মোকাবিলায় তার শিল্প ও আর্থিক নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নেতৃত্বে নীতি-সংলাপ, শিল্প অর্থায়ন এবং আর্থিক খাতের কাঠামোগত সংস্কারে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন