মাহবুব আলম (অষ্টগ্রাম) কিশোরগঞ্জ :
হাওরের বন্যা দুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব উল্লেখ করে সরকার ও বিত্তবানদের প্রতি হাওরের বন্যা দুর্গতদের সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট হাওর গবেষক ও নারী উদ্যোক্তা কাজী রেহা কবির সিগমা।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলে সৃষ্ট বন্যায় বর্তমানে পানি কিছুটা কমলেও বেশির ভাগ ধান নষ্ট হয়ে গেছে।”
ধান কাটার শ্রমিক সংকট, পরিবহনের অপ্রতুলতা এবং ধান শুকানোর মেশিন এর অপার্যাপ্ততার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কৃষকরা এই ত্রিমুখী সংকটে এখন দিশেহারা।”
হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়তার ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়ে এসময় তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকতা দেখালেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দায়িত্বশীল ভূমিকায় দেখা যায়নি।”
তিনি বলেন, “দুর্গত মানুষদের সমস্যার সমাধান এবং সহযোগিতার হাত না বাড়িয়ে শুধু কথিত পরিদর্শন, মিডিয়া কাভারেজ এবং ফটোসেশন বিপন্ন মানুষদের সাথে উপহাসের শামিল।”
ব্যক্তিগতভাবে তার নিজস্ব তহবিল থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার দুর্গত কৃষকদের জন্য যথাসাধ্য সহায়তার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “হাওরের কৃষকদের দুর্ভোগ প্রশমনের জন্য সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
হাওর অঞ্চলে অব্যাহত নদী দখল , অপরিকল্পিতভাবে নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ছাড়াই সড়ক ও সেতু নির্মাণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রতি দৃষ্টি দিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের কে এ সময় আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গত বৃহস্পতিবারের প্রাথমিক হিসাব মতে, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাওরের সাত জেলাতেই চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ হয়েছিল ৪ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৩ হেক্টরে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ লাখ ২৫ হাজার টনের বেশি। এর মধ্যে প্রায় তিন লাখ হেক্টরের ধান কাটা গেলেও বাকিটা এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে।
মন্তব্য করুন